রাজশাহীতে "হেড অব ট্রেনিং" সভায় আইজিপি- উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ গড়তে প্রশিক্ষণে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে-পুলিশের মেয়ের ডায়েরি-এসআই সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদে নিয়োগে সংস্কার-এসইও কি, কি ভাবে এসইও কাজ করে, এবং কি ভাবে এসইও শিখবেন ।-জন্ম নিবন্ধন করার জন্য এখন থেকে আর ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে না-কেউ যদি আপনাকে অবহেলা করে তাহলে আপনার কি করা উচিত। ভালবাসার মানুষ ইগনোর (ignore) করলে এর সমাধান-করোনা টিকা নেওয়ার আগে যা যা করণীয়-করোনা টিকা নেওয়ার পর করণীয়-করোনা টিকার নিবন্ধন: খোদ বিশেষজ্ঞরাই ভোগান্তিতে-রক্তদানের উপকারিতা-করোনা টিকা নেওয়ার আগে কিছু পরামর্শ-RUPKOTHA TUI AMARI (রুপকথা তুই আমারি) Lyrics-ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য গাইড লাইন।-গাজীপুর সিটির সারদাগঞ্জ এলাকায় এক কিশোরীকে (১৬) দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজন-Tujhe kitna chahane Lage English cover by Emma Heesters, Bangla And English Lyrics.
HomePolice Newsপোশাক বদলের পরিকল্পনা চলছে বাংলাদেশ পুলিশের।

পোশাক বদলের পরিকল্পনা চলছে বাংলাদেশ পুলিশের।

 

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক একসময় ছিল খাকি, তা বদলেছে অনেক আগেই। পরে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দুই রংয়ের পোশাক দেওয়া হয়। এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটালিয়নভেদেও রয়েছে পোশাকের ভিন্নতা। তবে এবার শুধু মহানগর (মেট্রোপলিটন) পুলিশ ছাড়া সব ইউনিটের পোশাক একই রংয়ের করার পরিকল্পনা চলছে।

বাহিনীর মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছ থেকে এ সংক্রান্ত পরামর্শ পেয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজও শুরু করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশের পোশাকের নমুনা সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।

নতুন পোশাকে হাতের ডান বা বাম পাশের কনুইয়ের উপর রেঞ্জ, জেলা বা ইউনিটের মনোগ্রাম অথবা নাম সংযুক্ত রাখার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশের সব ইউনিটের পোশাক একই রংয়ের করার পরিকল্পনা চললেও বাহিনীটির বিশেষায়িত অঙ্গ র‌্যাবের পোশাক আগের মতো থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও এখনো এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পোশাকের কাপড় হবে খুবই উন্নতমানের। বাহিনীর নিজস্ব গার্মেন্টস বা টেক্সটাইল মিল তৈরি করে সেখান থেকে নতুন পোশাকের কাপড় কেনার কথা ভাবা হচ্ছে। এজন্য পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে গাজীপুরে একটি গার্মেন্টস অথবা টেক্সটাইল মিল তৈরির পরিকল্পনা করছে পুলিশ সদর দপ্তর।আর এই বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি)। পুলিশের নিজস্ব ছাপাখানা গড়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি দেখভাল করতে বলা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে। এছাড়া জুতাসহ অন্যান্য সরঞ্জামও একই উৎস থেকে কেনা বা সংগ্রহ করতে পারবেন পুলিশ সদস্যরা।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, তারা এর আগে যেসব কাপড় ব্যবহার করেছেন তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। ব্যবহার করার সময় অনেকেরই নানা সমস্যা হতো। ওইসব পোশাক দ্রুত বিবর্ণের পাশাপাশি ছিঁড়েও যেত। এছাড়া ওই পোশাক পরে সারাদিন দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না পুলিশ সদস্যরা। বাধ্য হয়ে অনেকে নিজের টাকায় উন্নতমানের কাপড় কিনে পোশাক তৈরি করতেন। তখন বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা পোশাক নিয়ে বেশি আপত্তি করেছিলেন। জানা গেছে, পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উন্নতমানের করতে সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পোশাকের মান আরও উন্নত করতে বেশকিছু প্রস্তাবনা আমলে নিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া পোশাক সরবরাহে সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চালান তিনি। বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদও দায়িত্ব নিয়ে পুলিশের পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উন্নতমানের করতে বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির চেষ্টা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইজিপি।

বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে পুলিশের পোশাক ছিল খাকি রংয়ের। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক আগেই পোশাকের রং বদলে গেছে। এর মধ্যে ২০০৪ ও ২০১৬ সালে দু’বার পুলিশের কয়েকটি ইউনিটের পোশাকের রং পরিবর্তন করা হয়েছিল। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দুই রংয়ের পোশাক দেওয়া হয়। তবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটালিয়নভেদে পোশাকের ভিন্নতাও রয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটলিয়নের (এসপিবিএন) পোশাক সম্পূর্ণ ভিন্ন রংয়ের। ২০০৪ সালে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রংয়ের করা হয়। জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রংয়ের পোশাক। র‌্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রংয়ের মিশ্রণে। এসপিবিএনের পোশাকের জামার রং করা হয় ধূসর। এভাবে পুলিশের পোশাক বিভিন্ন রংয়ের ও কাপড়ের হওয়ায় অপরাধীরা তা নকল করে ব্যবহারের মাধ্যমে ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সারা দেশে এ ধরনের অনেক ঘটনার প্রমাণও মিলেছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে অনেককে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের পোশাক বিধি সংশোধন করা হয়। নতুন বিধিতে পুলিশের ক্যাপ, ব্যাজ ও বেল্ট থেকে নৌকার মনোগ্রামের সঙ্গে বৈঠাও বাদ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সেই বিধি পরিবর্তন করে ১৯৮৫ সালের বিধি বহাল করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইজিপি স্যার পুলিশের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার তাই করছেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব নানাভাবে সহায়তা করছেন। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন রংয়ের পোশাক ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এসব পোশাক নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইজিপি স্যার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা বলেন। সারা দেশের পুলিশ সদস্যরা একই রকমের পোশাক যাতে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য তিনি বেশকিছু প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। রেঞ্জ ও জেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের পোশাক একই রংয়ের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে আলাদা হওয়ার কথা রয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাক। এছাড়া র‌্যাবের পোশাক পরিবর্তন হবে না। ’

নতুন পোশাকের ডান বা বাম হাতের কনুইয়ের উপরের অংশে ইউনিট, রেঞ্জ, জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের লোগো বা মনোগ্রাম সংযুক্ত থাকবে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পোশাকে নৌকার ব্যাজসহ আগে যা ছিল তাই থাকবে। আইজিপি স্যার বলেছেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্যই উন্নতমানের পোশাক ব্যবহার করবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরে একটি গার্মেন্ট বা টেক্সটাইল মিল তৈরি করা হবে। আর এজন্য ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নিজস্ব ছাপাখানাও তৈরি হচ্ছে। প্রেসের তদারকি করছেন ডিএমপি কমিশনার। ’

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের পোশাক বদলানোর বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। কালার কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পোশাকের পাশাপাশি জুতাসহ অন্যান্য সরঞ্জামও দেওয়া হবে নির্দিষ্ট স্থান থেকে। গার্মেন্টস বা টেক্সটাইল মিলটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চালু করা হবে। পাশাপাশি ছাপাখানার কাজও শিগগির শুরু হবে বলে আশা করছি। ’

পুলিশ সদর দপ্তরের সরবরাহ শাখার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের পোশাক বদলানোর ব্যাপারে আইজিপি স্যার উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ’

পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (লজিস্টিক) ড. তৌফিক মাহবুব চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পোশাক পরিবর্তনের জন্য চিন্তাভাবনা করছেন আইজিপি স্যার। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশের পোশাকগুলো কী রকম তার নমুনা সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। ’

8 months ago (19/01/2021) 168 Views
Report

About Author (51)

Administrator

Related Posts

© All Rights Reserved 2021